অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের প্রসারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সম্পদ সৃষ্টি হয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে। সম্পদের ভাগ-বণ্টন করা সম্ভব হলেও দারিদ্র্যের বণ্টন করা যায় না।’
গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) ফেনী শহরের একটি কনভেনশন হলে ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী জানান, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এসব অবকাঠামোগত ও পরিবেশগত নিরাপত্তা না থাকলে টেকসই উন্নয়ন বা প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতি অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, আর একটি শক্তিশালী অর্থনীতি রাজনৈতিক পরিবেশকে পরিশোধিত করে।’
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় না থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশ ঘটলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সমাজে আর্থিক বৈষম্য হ্রাস পাবে।
প্রযুক্তির বিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সম্পদের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এসেছে। নতুন সময় ও প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বক্তব্যে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা মাদক ও কিশোর গ্যাং কালচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকাসক্তি এবং কিশোর অপরাধ দমনে তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যস্ত রাখা প্রয়োজন। এ জন্য খেলাধুলার প্রসারের বিকল্প নেই।
সরকারপ্রধান ঘোষিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমেই শিশু ও তরুণদের ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে এনে কিশোর গ্যাং বা মাদকের মতো ব্যাধি থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও চেম্বারের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।