দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন নিরুৎসাহিত করতে নরমাল ডেলিভারি নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।
এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘আমাদের দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছি, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম রাখতে হবে। এ সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণাও চালু রাখতে হবে, যাতে নরমাল ডেলিভারিকে আরও উৎসাহিত করা যায়।’
সিজারিয়ান সেকশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণকে অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
স্বাস্থ্য খাতকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, এবারের বাজেটে এ খাতে ৩৭ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে জিডিপির দশমিক ৬ থেকে দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ ছিল, এবার তা বেড়ে জিডিপির ১ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য সরকার কাজ করছে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট কাটিয়ে আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করার কাজ চলছে। তাঁর ভাষ্য, অচিরেই স্বাস্থ্য খাতের গুণগত পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কথা উল্লেখ করে এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি হাসপাতালের মতো এই হাসপাতালেও রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি। ধারণক্ষমতার অন্তত দুই থেকে তিন গুণ বেশি রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। ফলে তাদের যথাযথভাবে সেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সেবা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারে তারা সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ফেনীর সিভিল সার্জন ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু ফেনীর চিত্র নয়, সারা বাংলাদেশের চিত্র। অনেক জেলাতেই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জনবল সংকট রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে জনবলের স্বল্পতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কত দ্রুত এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সঠিক জনবল সঠিক জায়গায় দেওয়া যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প স্বাস্থ্য কার্ড প্রসঙ্গে এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা গেলে একজন রোগী কী চিকিৎসা পেলেন, কী ওষুধ পেলেন এবং কী কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলো—এসব তথ্য রেকর্ড থাকবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে মনিটর করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাসপাতালগুলো কীভাবে আরও কার্যকরভাবে মনিটর করা যায়, তা নিয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান তিনি।
বুধবার দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট, স্ক্যানু, আইসিইউ, ডেঙ্গু বিভাগ, হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. জালাল, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সোহরাব হোসেন, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন, সহকারী আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দৌলা, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।