ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ভারতের পানি আগ্রাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ আরও বেশি সজাগ থাকবে। কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার যেন বাংলাদেশের মানুষ না হন, সে বিষয়ে সরকার ও দেশবাসী সতর্ক থাকবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও ইতিবাচক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়া উচিত। ভারতকেও চিন্তা করতে হবে, বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটুকু ইতিবাচক হওয়া দরকার। আমরা আশা করছি, ভারত এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে এবং বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার যেন আমাদের দেশের মানুষ না হন, সে জন্য আমরা আরও বেশি সজাগ থাকব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসীও সজাগ থাকবে।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল। এখন জনগণ নির্বাচিত করায় সরকার দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’
বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পসহ দেশের সব প্রকল্প যথাযথভাবে শেষ করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করাকে নিজের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
একনেকে অনুমোদিত মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েই কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধভাঙন ও বন্যায় মানুষের ক্ষতি কমবে। বৃহত্তর এ অঞ্চলের মানুষ প্রকল্পটির সুফল পাবেন।
আগামী মাসের যেকোনো সময় অথবা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে এসে প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করবেন বলেও জানান মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।