জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন, গত ছয় মাসে বিএনপি অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনকভাবে একটি অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানিসংকট ও দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে মানুষ দুর্ভোগে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী শহরের একটি হোটেলে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।
সারজিস আলম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। জ্বালানিসংকট থেকে শুরু করে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের মধ্যে মানুষ জীবনযাপন করছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ ও সব জায়গায় স্বজনপ্রীতি করা হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক বসানোর উদ্যোগের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ‘বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদেও প্রশাসক বসাতে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য লজ্জাজনক উদাহরণ হয়ে থাকবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, সামনে স্থানীয় নির্বাচন আসছে। বিএনপি ইতিমধ্যে তাদের প্রতিশ্রুতি ও গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে; ৩১ দফার সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এ কারণে জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
গুমের অধ্যাদেশ নিয়েও বিএনপির সমালোচনা করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, ‘গুমের অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে। আওয়ামী লীগের সময়ে গুমের যে আইন ছিল, তার চেয়েও দুর্বলভাবে সেটি আনা হয়েছে।’
সারজিস আলম বলেন, প্রত্যাশা ছিল বিএনপি এই অধ্যাদেশের কিছু দিক আরও ভালোভাবে সংস্কার, যাচাই-বাছাই ও সমৃদ্ধ করে জনগণের জন্য বাস্তবায়ন এবং আইনে পরিণত করবে। কিন্তু কিছুদিন আগে গুম অধ্যাদেশ যেভাবে আনা হয়েছে, সেটি আওয়ামী লীগের সময়ের গুমের আইনের চেয়েও দুর্বল বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির ৩১ দফাকে ‘মুখের বুলি’ আখ্যা দিয়ে সারজিস আলম বলেন, মানবাধিকারসংক্রান্ত যেসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, সেগুলোও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সংস্থা ও সদস্যের মাধ্যমে গুম হয়, তাদের কাছেই মামলা, অভিযোগ ও তদন্ত করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধী দলের সংসদীয় ১৩টি স্থায়ী কমিটির সভাপতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি তা দিচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে। অংশগ্রহণ করলেও দোষ, না করলেও দোষ—এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদের প্রতিফলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সুযোগ বিএনপির ছিল। কিন্তু তারা তা করেনি। বরং বিরোধী দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সেখানে যাওয়ায় এখন আবার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এখন পর্যন্ত এনসিপি এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এককভাবেই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ‘আমরা এ লড়াই করতে চাই। হয়তো কোনো জায়গায় আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট পাব না, কিন্তু শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, সদস্যসচিব শাহ ওয়ালি উল্লাহ মানিকসহ দলের কেন্দ্রীয় ও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।