সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নাতনি নিহত হয়েছে এমন খবর শুনে শোকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান খাইরুন নেছা নামে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। এদিকে দাদির মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরই জানা যায়, দুর্ঘটনায় তাঁর নাতনি নন, প্রাণ হারিয়েছে অন্য এক শিক্ষার্থী। পরিবার অক্ষত অবস্থায় ফিরে পায় জান্নাতুল ফাহিম নামে কিশোরীকে। কিন্তু ততক্ষণে সেই স্বস্তি শোকে রূপ নিয়েছে খাইরুন নেছার মৃত্যুতে।
রোববার সন্ধ্যায় ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ দিন বিকেলের দিকে সিলোনীয়া বাজার এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় বাস উল্টে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, খবর শুনে অচেতন অবস্থায় খাইরুন নেছাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে সিলোনীয়া বাজার এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সিলোনীয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী নিহত হয়। জান্নাতুল ফাহিমও একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। দুর্ঘটনার পর জান্নাতকে খুঁজে না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তাকে নিয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে জান্নাতও রয়েছে এমন খবর বাড়িতে পৌঁছালে শোকে ভেঙে পড়েন দাদি খাইরুন নেছা। এ সময় তিনি অচেতন হয়ে ঘরে লুটিয়ে পড়েন।
এর কিছুক্ষণ পর জান্নাতুল ফাহিমকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পান স্বজনেরা। তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই তারা জানতে পারেন, বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
খাইরুন নেছার ছেলে স্বপন মিয়া বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিলোনীয়া বাজারে গিয়ে মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। চারদিকে কয়েকজন ছাত্রী নিহত হওয়ার কথা শুনে বিষয়টি স্ত্রীকে জানাই। আমার মা মনে করেছিলেন, দুর্ঘটনায় আমার মেয়ে জান্নাতও মারা গেছে। এ শোকে তিনি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। পরে মেয়েকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাই। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে মায়ের অসুস্থতার খবর পাই। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমি আমার মেয়েকে খুঁজে পেলেও চিরদিনের জন্য মাকে হারালাম।’
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. ইফরাদ খন্দকার বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই খাইরুন নেছার মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নাতনির মৃত্যুর খবর শুনে তীব্র মানসিক আঘাতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি।’