ফেনীর সোনাগাজীতে এক হতদরিদ্র বিধবা নারী ও তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলেকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘর পুনর্নির্মাণে বাধা, শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির অভিযোগে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে পরিবারটি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আরব আলী মিস্ত্রির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীরা হলেন বিধবা সালেহা খাতুন ও তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে আমির হোসেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের বন্যায় বিধবা সালেহা খাতুনের ঘরটি ভেঙে যায়। আর্থিক সংকটে ঘরটি পুনর্নির্মাণ করতে না পারায় কয়েকজন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন থেকে তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আর্থিক সহায়তায় ঘর পুনর্নির্মাণ শুরু করলে মোসলেহ উদ্দিন ফারুকের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি একাধিকবার কাজে বাধা দেন। তাঁরা মিস্ত্রি ও শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির দাবি, বর্তমানে তারা একটি খুপরি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রতিপক্ষের হুমকিতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানিয়েছে পরিবারটি।
চরভৈরব সমাজ কমিটির কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করে পরিবারটি। অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক বৈঠকে অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন ফারুক, মো. বিজয়সহ অন্যরা উপস্থিত হননি।
পরে সমাজ কমিটির সভাপতি আবু তাহের, সেক্রেটারি কামাল উদ্দিনসহ সদস্যরা স্বাক্ষর করা একটি লিখিত সালিসি রোয়েদাদ দেন। রোয়েদাদে পরিবারটির ওপর নির্যাতন, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও ভূমি নিয়ে বিরোধের বিষয় উল্লেখ করে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিবারটির লিখিত অভিযোগের পর সোনাগাজী মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং উভয় পক্ষকে থানায় ডাকে। থানার বৈঠকে প্রতিপক্ষ কোনো কাগজপত্র প্রদর্শন না করে সময় চেয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
মোসলেহ উদ্দিন ফারুক বলেন, ‘আগে থেকেই এই জায়গার মালিক আমরা। আমরা তাদের উচ্ছেদ করছি না। বর্তমান ভিটা থেকে ঘরটি সরিয়ে আরেক জায়গায় স্থানান্তরের জন্য বলেছি। তা ছাড়া এই জায়গার বিএস রেকর্ড নিয়ে আদালতে মামলা চলমান।’
চরভৈরব সমাজ কমিটির সভাপতি আবু তাহের ও সেক্রেটারি কামাল উদ্দিন বলেন, অসহায় পরিবারটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। প্রতিপক্ষ উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশিম বলেন, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।