চাঁদা না পেয়ে গভীর রাতে ফেনীর সোনাগাজীতে কারাবন্দী সাবেক এমপি হাজি রহিম উল্লাহর ছোট ভাই হাজি সিরাজুল হকের বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানান সোনাগাজী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মফিজুর রহমান।
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, ফেনী-৩ আসনের কারাবন্দী সাবেক এমপি হাজি রহিম উল্লাহর ছোট ভাই হাজি সিরাজুল হক মুহুরি প্রজেক্ট এলাকার একজন মৎস্য খামারি। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা খামারে গেলে ওই এলাকার সোহেল, শাহীন, আসিফ, মোশাররফ, কেফায়েত ও আরিফের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেন।
এ সময় তাঁরা সিরাজুল হকের ছেলে বিপ্লবের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। মোটরসাইকেলটি ছাড়ার বিনিময়ে তাঁরা সিরাজুল হকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় বসতঘরে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেন।
গতকাল রাত ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা দলবদ্ধ হয়ে সিরাজুল হকের আড়াই মাস বয়সী শিশুকন্যাকে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে ১৩-১৪ ভরি সোনা ও নগদ ৮ লাখ টাকা লুট করে কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। পরে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানতে চাইলে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী হাজি সিরাজুল হকের ছেলে শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. বিপ্লব। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, মেয়ে শারমিন আক্তার, আইরিন আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।