হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে স্ত্রীর হাতের কবজি কেটে দেওয়ায় স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সাজাপ্রাপ্ত আসামি রনি মণ্ডল। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরে যৌতুক না দেওয়ায় ও মাদক সেবনে নিষেধ করায় স্ত্রীকে নির্যাতন করে হাতের কবজি কেটে দেওয়ার মামলায় স্বামী রনি মণ্ডলকে (৩১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে তিন লাখ টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক।

আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই আদেশ দেন।

রনি মণ্ডল ফরিদপুর সদর উপজেলার চৌহাটা গ্রামের ছাদিক মণ্ডলের ছেলে। সাজা ঘোষণার পর তাঁকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তিন বন্ধুকে বাসায় এনে মাদক সেবন করেন স্বামী রনি মণ্ডল। পরে বন্ধুদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং রাত ২টায় ফিরে আসেন। এরপর ঘরে ঢুকে কৌশলে স্ত্রী সাদিয়ার দুই পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এ সময় তাঁর বাবাকে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার কথা বলেন। একপর্যায়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে সাদিয়ার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন রনি। এ ঘটনায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন সাদিয়া। এরপর ওই বছরের ৩০ অক্টোবর স্বামী ও শ্বশুরকে আসামি করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ভুক্তভোগী। পরে মামলাটি কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এমন নৃশংস ঘটনায় মামলার ধারায় সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।