ফরিদপুরের পদ্মা নদীর দুর্গম চর এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। আজ সোমবার সকাল আটটার দিকে জেলা সদরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর চর এলাকায় নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। ২৩ দিনের ব্যবধানে পদ্মা নদী থেকে দুই অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনো তাঁদের কারও পরিচয়ই শনাক্ত হয়নি।
স্থানীয়রা লাশ ভেসে আসার বিষয়টি ফরিদপুর কোতোয়ালি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে জানালে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক তপন কুমার নন্দী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি একজন নারীর এবং আনুমানিক বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর হতে পারে। মরদেহটি পচে-গলে ফুলে গেছে। তাঁর পরিচয় শনাক্তে কাজ চলমান। পরিচয় না পেলে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন সম্পন্ন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় পদ্মা নদীর জেলা সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের সাদিপুর এলাকা থেকে আরও এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, ওই মরদেহের শরীর ক্ষতবিক্ষত ও পচনশীল অবস্থায় পাওয়া যায়।
ওই নারীর হাত ও পায়ে থাকা বিভিন্ন চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে তাঁকে সনাতন ধর্মাবলম্বী মনে হলেও ২৩ দিনেও তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটি শহরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দুটি মরদেহই পচনশীল অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ, প্রত্যেকেরই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে গত ২২ আগস্ট উদ্ধার করা মরদেহটি প্রাথমিকভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী মনে হলেও আজও কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। আমরা ওই মরদেহটির ডিএনএ সংরক্ষণ করে রেখেছি।’
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, উজান থেকে মরদেহগুলো ভেসে আসতে পারে। বিশেষ করে পাবনা, ঈশ্বরদী, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া অঞ্চলের হতে পারে।’