ঢাকায় চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়ে নিখোঁজ আকাশ সরদার (২১) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ ২৯ দিন পর গাজীপুরের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিঠু নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।
নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মো. করিম সরদারের ছেলে। গত ২৭ জুলাই বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজের পর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে আকাশের স্ত্রীর মোবাইলে সুমন নামে একজন ফোন করে টাকা চাইলে আকাশের বাবা করিম সরদার বাদী হয়ে মাজহারুল ইসলাম মিঠু, অপু মিয়া ও সুমন মিয়াকে এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আকাশ সরদার ও মাজহারুল ইসলাম মিঠু প্রায় আড়াই বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার অপু মিয়ার মাধ্যমে কম্বোডিয়া যান। তিন মাস আগে দুজনেই কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরেন। এর পর থেকেই আকাশ বেকার। গত ২৭ জুলাই তাঁকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডেকে নেন মাজহারুল। সেখান থেকে তাঁকে অপহরণ করে টঙ্গীতে নিয়ে আসা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তথ্যমতে, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে আকাশকে আটকে রাখার বিষয়টি জানান সুমন নামে এক ব্যক্তি। এর পর থেকেই আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক মো. হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে উত্তরা র্যাব-১-এর একটি দল গতকাল রোববার টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মিঠুর তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ আজ সকালে ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশ সরদারের মরদেহ উদ্ধার করে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘লাশটি উদ্ধারের পর গাজীপুর মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া এ ঘটনায় অন্যদের বা কেউ জড়িত থাকলে প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’