ফরিদপুরে সাবেক স্ত্রী সোনিয়া খাতুনকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় জুয়েল রানা (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার অর্থ আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আবু হাসান খায়রুল্লাহ এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি জুয়েল রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জুয়েল রানা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হারানহাট ইউনিয়নের দোগাছি গ্রামের বাসিন্দা। ঝিনাইদহের হরিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সোনিয়া খাতুনের (৩৫) সঙ্গে ২০১৮ সালে তাঁর বিয়ে হয়।
বনিবনা না হওয়ায় ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁদের তালাক হয়। পরে সোনিয়া ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গাড়াখোলা মহল্লায় মো. তৌহিদ শেখের বাড়িতে অবস্থিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বীজের শাখায় চাকরি শুরু করেন। সোনিয়া ওই কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে থাকতেন।
তালাকের পরও জুয়েল রানা সোনিয়াকে নানাভাবে হুমকি দিতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সোনিয়া ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে বীজের ভবনে নিজের কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন সোনিয়া। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে জুয়েল রানা ভবনের নিচে গিয়ে তাঁকে ডাকাডাকি ও গালাগালি করেন। সাড়া না পেয়ে জুয়েল রানা ভবনের পাশের একটি আমগাছে উঠে দ্বিতীয় তলার খোলা জানালা দিয়ে ঘুমন্ত সোনিয়ার ওপর অ্যাসিড ছুড়ে মারেন।
অ্যাসিডে সোনিয়ার মুখ, গলা, ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়।
পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর সোনিয়ার বাবা মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে জুয়েল রানাকে এক নম্বর আসামি করে ফরিদপুরের মধুখালী থানায় অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ননী গোপাল সরকার ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জুয়েল রানাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
আদালতের ভারপ্রাপ্ত পিপি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাসিড ছুড়ে মারা একটি জঘন্যতম অপরাধ। যাঁর দিকে অ্যাসিড ছোড়া হয়, এটি তাঁর মৃত্যুর সমান। এ জঘন্য অপরাধে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। আশা করি, এ রায়ের ফলে সমাজে এ জাতীয় অপরাধ কমে আসবে।’