ফরিদপুরে সদ্য নিয়োগ পাওয়া সিভিল সার্জন এস এম মঞ্জুর এলাহিকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর যোগদান ঠেকানোর দাবিতে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন একদল তরুণ। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দেন।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ‘ফরিদপুর সচেতন ছাত্র সমাজ’-এর ব্যানারে অনূর্ধ্ব ৩০ জন তরুণ শহরের ব্রাহ্মসমাজ সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে যান। তাঁরা অফিসে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘ফ্যাসিবাদের আস্তানা ফরিদপুরে হবে না’, ‘ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও ফ্যাসিবাদের আস্তানা’, ‘ফরিদপুরে হবে না, আওয়ামী লীগের ঠিকানা’, ‘ফরিদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে মঞ্জুর এলাহিকে মানি না, মানবো না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘স্বাচিপ নেতা সিভিল সার্জন কেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জবাব চাই’ এবং ‘কে করল ফ্যাসিস্টের সুপারিশ, তারেক রহমানের কাছে যাবে তার নামে নালিশ’সহ বিভিন্ন বক্তব্য লেখা ছিল।
জানা গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এস এম মঞ্জুর এলাহিকে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর নিয়োগের আদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর যোগদান ঠেকানোর দাবিতে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এস এম মঞ্জুর এলাহি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আজীবন সদস্য।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম রোমান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ।
খাইরুল ইসলাম রোমান বলেন, ‘ফরিদপুরে ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য মঞ্জুর এলাহিকে সিভিল সার্জন করা হয়েছে। এটা আমরা মেনে নেব না। কোনো অবস্থাতেই তাঁকে ফরিদপুরে আসতে দেওয়া হবে না। মঞ্জুর এলাহির নিয়োগের আদেশ বাতিল করা না হলে ফরিদপুরে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
কাজী রিয়াজ বলেন, ‘আগে যারা আওয়ামী লীগ ছিল, তাদের ফরিদপুরে পুনর্বাসনের চেষ্টা আমরা প্রতিহত করব।’
এদিকে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ তিনটি গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নতুন সিভিল সার্জনকে যোগদান না করানো এবং বর্তমান সিভিল সার্জনকে বহাল রাখার দাবিতে সচেতন ছাত্র সমাজের ব্যানারে কিছু লোক মানববন্ধন করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।’
ফরিদপুরের বর্তমান সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নতুন সিভিল সার্জনের নিয়োগের প্রতিবাদে সকাল ৯টার দিকে তাঁরা অফিসে এসে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। ওই সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে ঢুকতে পারেননি। পরে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’