ফরিদপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালটি ‘ডাস্টবিন হয়ে আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ নিয়ে সভাপতিত্বের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আজ প্রথমবারের মতো সভায় অংশ নেন। সভার আগে হাসপাতালের মিলনায়তনে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘পরিদর্শনে এসে দেখতে পেলাম হাসপাতালের পেছনে বর্জ্যের স্টোরেজ। হাসপাতালটা দেখে মনে হলো ডাস্টবিন হয়ে আছে।’ পৌরসভা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বর্জ্য অপসারণের জন্য বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আসলে এতো বছর এদেশে কোনো জবাবদিহিতা ছিলনা। গত ১৭ বছরের জঞ্জাল দূর করতে কিছুটা সময় লাগবে।’
নায়াব ইউসুফ বলেন, ‘আমরা যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি, এখন সকলেই জবাবদিহিতার মধ্যে চলে এসেছি। জনগণের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।’ তিনি জানান, জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং আধুনিক মানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চেয়ে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে হাসপাতালে এসে সঠিক সেবা পায়, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, রোগীদের আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ, জরুরি বিভাগের সেবার মান বৃদ্ধি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ.এস.এম. আনিছুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামানসহ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
এ ছাড়াও ছিলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ.কে.এম. কিবরিয়া স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক আলী রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।