হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

দাদি-ফুফুর নির্যাতনে বাড়িছাড়া কিশোরীকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন দুই যুবক, অতঃপর

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। বাবার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মা চলে গেছেন। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বাবাও কারাগারে রয়েছেন। দাদি ও ফুফুর নির্যাতনের শিকার হয়ে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। গভীর রাতে থানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে গাড়িতে তুলে মাহিন্দ্রাচালক ও তাঁর সহকারী অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ৯৯৯-এ কল পেয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এসব তথ্য জানান ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান। এর আগে গতকাল বুধবার গভীর রাতে শহরের বিল মাহমুদপুর এলাকা থেকে কিশোরী সুমাইয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাহিন্দ্রাচালক ইকবাল (৩২) ও তাঁর সহযোগী মজিদ বেপারীকে (২৯) আটক করা হয়।

উদ্ধার সুমাইয়া আক্তার ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার মমিদুল ইসলাম ওরফে সানবিরের মেয়ে। সে ফরিদপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ জানায়, বাবা-মা না থাকায় বাড়িতে দাদি ও ফুফু প্রায়ই নির্যাতন করতেন সুমাইয়াকে। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে নির্যাতনের শিকার হয়ে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। শহরের ধুলদি এলাকার পলাশ ওরফে পাগলা বাবা ফকিরের বাড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে তাকে পরদিন সকালে যেতে বলা হয়। পরে ধুলদি স্ট্যান্ড থেকে সুমাইয়াকে থানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মাহিন্দ্রা গাড়িতে তোলেন চালক ইকবাল ও মজিদ। পরে রাতে থানা খোলা না থাকার অজুহাত দেখিয়ে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ইকবাল।

পুলিশ আরও জানায়, পরে সুমাইয়াকে বিল মাহমুদপুর এলাকায় মজিদ বেপারীর বাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১টার দিকে বিল মাহমুদপুর এলাকায় পৌঁছালে বাজারের নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়িটি আটক করেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়াকে স্ত্রী বলে পরিচয় দেন ইকবাল। এতে সন্দেহ হলে নিরাপত্তাকর্মীরা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমাইয়াকে উদ্ধার করে।

ওসি মো. মাহামুদুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, কিশোরী সুমাইয়া দাদি ও ফুফুর কাছে যেতে চাচ্ছে না। আমরা তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু-কিশোরী নিবাস কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। আটক দুজনের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।