হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে উচ্ছেদ অভিযানে হামলার অভিযোগে মামলা, বর্জ্য অপসারণ বন্ধ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

হামলার প্রতিবাদের বর্জ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছেন ট্রাক চালক ও শ্রমিকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুর পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযানে পৌর কর্তৃপক্ষকে অবরুদ্ধ ও শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট ট্রাক চালক ও শ্রমিকেরা আজ বুধবার সকাল থেকে ফরিদপুরের তিতুমীর বাজার ও চকবাজার এলাকার বর্জ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে পৌরসভা সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

মামলা করেছেন ময়লাবাহী ট্রাক চালক সবুজ প্রামাণিক (২৮)। তিনি গতকাল মঙ্গলবার রাতেই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

পৌরসভা সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকীর নেতৃত্বে চকবাজার এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে শতাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ব্যক্তি পৌর কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের মারধরের শিকার হন সবুজ প্রামাণিক।

ফরিদপুর পৌরসভার কনজারভেন্সি বিভাগের পরিদর্শক বিকাশ দত্ত বলেন, ‘গতকাল বিকেলে চকবাজার এলাকায় ট্রাক চালক সবুজ মারধরের শিকার হওয়ার পর রাতেই পৌরসভায় বসে ট্রাক চালক ও শ্রমিকেরা হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই বাজার এলাকার ময়লা পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।’

বিকাশ দত্ত আরও বলেন, ‘আজ সকাল থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ ট্রাক চালক ও শ্রমিকদের বাজার এলাকার ময়লা নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তাঁরা তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।’

পৌরসভা সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিদিন ভোরে তিন টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্রাকের চালক চারজন শ্রমিক নিয়ে দুইবারে বাজার এলাকার পাঁচটি স্থানে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করেন। তবে গতকালের হামলার পর আজ সকাল থেকে ওই সেবা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় ৫ থেকে ৬টি এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ জমে থাকতে দেখা গেছে। চকবাজার ও তিতুমীর বাজারসংলগ্ন ফলপট্টি, থানার মোড়, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সামনের মোড়, ময়রা পট্টি এলাকা এবং আলীমুজ্জামান সেতু সংলগ্ন এলাকায় ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং জনসাধারণ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

চকবাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, ‘সেবা বন্ধ করে দেওয়া মানে হচ্ছে জনগণকে জিম্মি করা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিক, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেবাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান সেবা বন্ধ করে দেবে, এটি কাঙ্ক্ষিত নয়।’

মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের আমরা খুঁজছি। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারব।’

প্রসঙ্গত, গত রোববার থেকে ফরিদপুর পৌরসভা শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনাকীর্ণ স্থান থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে অভিযানের তৃতীয় দিনে চকবাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন অভিযানে অংশ নেওয়া পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।