হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

‘জুলাই যোদ্ধাকে’ গ্রেপ্তার করে এসআই বললেন, ‘ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ আছে’

ফরিদপুর প্রতিনিধি

গ্রেপ্তার সজীব বেগ। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সজীব বেগ নামে এক ‘জুলাই যোদ্ধাকে’ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনা হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার এসআই মোজাম্মেল হক।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সজীব বেগকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ চরসুলতানপুর মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সজীব বেগ উপজেলার চরসুলতানপুর ধোপাডাঙ্গি গ্রামের হাবিবুর রহমান বেগের ছেলে।

জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় দক্ষিণ চরসুলতানপুর মোড়ে চায়ের দোকানে বসেছিলেন সজীব বেগ। এ সময় সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং মাদকবিরোধী অভিযানের কথা জানান। একপর্যায়ে তাঁকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট মামলাটি করেছিলেন থানার তৎকালীন এসআই মো. রফিকুজ্জামান। এতে আওয়ামী লীগের ২৮ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা অনেককে আসামি করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোজাম্মেল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘২০২৫ সালের রাজনৈতিক মামলায় সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী শোয়াইব সরদার বলেন, ‘আমরা কয়েকজন চায়ের দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ সাদা পোশাকে কয়েকজন এসে পুলিশ পরিচয় দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের কথা জানান। একপর্যায়ে সজীবকে ওসি থানায় যেতে বলেছেন জানিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।’

সজীবের পরিবার জানায়, সজীব একজন জুলাই যোদ্ধা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সদরপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করায় তাঁকে আটক করা হয়। পরে সদরপুর থানায় পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং ৫ আগস্টের পরে ওই মামলায় কারামুক্ত হন তিনি।

ওই মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই সদরপুর থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে এসআই মো. মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই মামলায় সজীবকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে ২১ জুলাই কারাগারে পাঠানো হয়।

সজীব বেগের চাচা মুরাদ হোসেন বেগ বলেন, ‘সজীব জুলাই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিল। ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে “জুলাইয়ে কারাবন্দীদের স্মৃতিচারণ” অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়ে অংশও নিয়েছিল। আজ তাঁকেই কোনো কারণ ছাড়া তুলে নিয়ে পুরোনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

মুরাদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের সময় নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। বর্তমানে আমাদের আওয়ামী লীগ বানিয়ে গ্রেপ্তার করা হলো। আমি সরকারের কাছে আমার ভাতিজার মুক্তির দাবি জানাই।’

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ছেলেটি জুলাই যোদ্ধা কি না জানা নেই। মূলত মাদক সংশ্লিষ্টতাসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে তিনি যুক্ত রয়েছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’