হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে ডোবায় ভেসে উঠল নিখোঁজ কলেজছাত্রের মরদেহ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

হাফিজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকার একটি ডোবা থেকে হাফিজুর রহমান (২৭) নামে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের তিন দিন পর আজ বুধবার সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি পানিতে ভাসতে দেখে। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত হাফিজুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পিঙ্গুলিয়া গ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে। তিনি বোয়ালমারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

পুলিশের ভাষ্য, তিন দিন আগে ওই স্থানে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এবং বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ডোবায় উল্টে পড়ে যায়। হাফিজুর ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসের নিচে চাপা পড়ে পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাইকহাটি এলাকায় ফরিদপুরগামী একটি লোকাল বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ইটবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ডোবায় উল্টে পড়ে যায়। ট্রাকটি রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা দিয়ে আটকে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ও থানা পুলিশ অন্তত ১২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে রাতে থানা পুলিশ বাসটি উদ্ধার করে কার্যক্রম সমাপ্ত করে। তবে হাফিজুর রহমান সবার অগোচরে থেকে যান।

হাফিজুরের পরিবারের পক্ষ থেকে ওইদিনই কাশিয়ানী থানায় নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডিতে বলা হয়, সেদিন সকাল সাড়ে ৮টায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাঁর নিখোঁজের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বোয়ালমারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জাহিদুল হক জানান, হাফিজুরের সেদিন পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষাটি দুপুর ১টায় শুরু হয়। তবে তিনি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।

বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রয়েল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর আগেই জানানো হয়, কেউ আটকা পড়েনি। পরে তাঁরা মাঝপথ থেকেই ফিরে যান।

মো. রয়েল হোসেন বলেন, ‘আজ সকাল ৬টায় পুলিশ জানায়, সেখানে মরদেহ ভেসে উঠেছে। মরদেহটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে ছিল, সম্ভবত সেখানে ভেসে গিয়েছে। এছাড়া আমরা সেখানে তল্লাশি চালিয়েছি এবং আর কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।’

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নিহত কলেজছাত্র ওই বাসের যাত্রী ছিলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। ধারণা করা যায়, তিনি বাঁচার জন্য ঝাঁপ দিলে ডোবায় পড়ে যাওয়া বাসের নিচে চাপা পড়েন এবং ওই অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে বাসটি উদ্ধারের সময় কাউকে পাওয়া যায়নি এবং আমরা উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করি। আজ সকালে জানতে পারি, ওই স্থানে একজনের মরদেহ ভেসে উঠেছে। পরে গিয়ে উদ্ধার করি। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’