ফরিদপুর পৌরসভার উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় তাঁদের প্রায় আধাঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার অস্থায়ী কাঁচাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বিকেল ৪টায় পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকীর নেতৃত্বে পৌরসভা কার্যালয় এলাকা থেকে মুজিব সড়কে অভিযান শুরু হয়। এ সময় ফুটপাতে থাকা অস্থায়ী স্থাপনা ও মালামাল জব্দ করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানটি শহরের জনতা ব্যাংকের মোড় হয়ে কোতোয়ালি থানা রোড এবং চকবাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চকবাজার এলাকায় ফুটপাতের একাধিক অস্থায়ী স্থাপনা ও দোকানের বর্ধিত অংশ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। একপর্যায়ে সেখানকার ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েন পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিক্ষুব্ধ শতাধিক ব্যবসায়ী ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের সঙ্গে আরও লোকজন যোগ দিলে একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধদের আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ব্যক্তিগত ও মালিকানা জায়গায় থাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, কর্মকর্তারা পৌরসভার জায়গা উদ্ধার করতে এসেছেন। কিন্তু সেটি মাপ দিয়ে তারপর করতে হবে। ব্যক্তিগত ও মালিকানা জায়গা বাদ দিয়ে উচ্ছেদ করতে হবে।
এ ঘটনায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, আমরা অভিযান স্থগিত রেখেছি। ব্যবসায়ীদের আগামী তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার বিকেলে একই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অভিযানের এক ঘণ্টা পরেই আবার ফুটপাত দখল করেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে গত রোববার থেকে শহরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে পৌর কর্তৃপক্ষ।