ফরিদপুর সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে সদর আসনের এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেছেন, ‘আমি শুনেছি, ওখানে না কি টাকা ভাগাভাগি হয়, এটা খুবই দুঃখের বিষয়।’
আজ শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এই মন্তব্য করেন। এ ছাড়া তিনি উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতি-অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে ভয় কাটিয়ে তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘আমি শুনেছি, এখানে জমি রেজিস্ট্রি হয় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। গতকাল শুনলাম, ওখানে যারা চাকরি করে, তারা প্রান্তিক পর্যায়ের গরিব-দুঃখী মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়ে থাকে। প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার জমি রেজিস্ট্রি হয়, যেখানে ২০০ টাকার নেওয়ার কথা, সেখানে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হয় এবং ওখানে এই টাকা না কি ভাগাভাগি হয়।’
এমপি বলেন, ‘ফরিদপুরের প্রতিটা উন্নয়নে দেখি দুর্নীতি। আমার খুব কষ্ট লাগে। প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি সেক্টরে আমি দেখছি দুর্নীতি। আসলে এগুলো আমি সহ্য করতে পারি না। আমি যত দিন আছি, আমার কাজ অন্যায়কে ন্যায়ের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা। আমি একটি সুন্দর ফরিদপুর চাই। এখানে কেউ চাঁদাবাজি করবে না, সন্ত্রাস থাকবে না।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে এমপি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারিতে যে দল ক্ষমতায় এসেছে এবং যেই নেতা ফরিদপুরে নির্বাচিত হয়েছে, তাতে আপনাদের ভয় থাকার কথা না। আমিও যদি কোনো অন্যায় করি, সেটাও তুলে ধরবেন, যাতে আমিও শোধরাতে পারি। আমার পরিবার যেটা রেখেছে সেই নাম, সম্মান, ভালোবাসায় কালিমা লেপন করার সাহস আমার নাই।’
নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘ফরিদপুরের বুকে একটা দল, যারা ধর্মের নামে গোঁড়ামি প্র্যাকটিস করে। তাঁরা কীভাবে এত ভোট পেল, আমি-তো চিন্তাই করতে পারি না। ওই দলটা যদি কোনো ইসলামি দল হতো, এই ফরিদপুরের বুকে সবার আগে আমার পরিবার ওই দল করত। আমাদের পরিবার এই দক্ষিণবঙ্গে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছে, আমার পরিবার না থাকলে আপনারা ইসলাম প্র্যাকটিস করতে পারতেন না ওইভাবে।’
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল ইসলাম পিয়ালের সঞ্চালনায় সভায় কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান, প্রেসক্লাবের সদস্য ফারিয়ান ইউসুফ আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।