ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এনসিপি নেতা আশরাফ শেখকে অবরুদ্ধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। হবু স্ত্রীর সঙ্গে এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে এই ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ঘটে এই ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজী শামসুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। আজ সকালে ভাঙ্গা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আশরাফ তাঁর হবু স্ত্রীর সঙ্গে পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে আসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কিছু পরীক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
একপর্যায়ে এনসিপির নেতাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া দেয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় দৌড়ে পালিয়ে কেন্দ্রসচিবের কক্ষে আশ্রয় নেন এনসিপির নেতা। তখন স্কুলের কয়েক শিক্ষক এগিয়ে এলে ইটের আঘাতে আহত হন প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া অবরুদ্ধ অবস্থায় এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের সঙ্গে বহিরাগতদেরও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত আজকের পত্রিকাকে বলেন, এনসিপি নেতা আশরাফ প্রতিটি পরীক্ষায় তাঁর হবু স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিল। পরীক্ষা শুরুর আগেই অভিভাবকদের সঙ্গে সে কেন্দ্রে অবস্থান করে থাকে। আজও পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে এসেছিল এবং তাঁর হবু স্ত্রীর কক্ষের কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হলে ঘটনাটি ঘটে। এতে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু হয়।
এই ঘটনার পর ভাঙ্গা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ কয়েক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানায়, ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এনসিপি নেতা আশরাফ শেখ পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তাঁর হবু স্ত্রী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। সেই সুবাদে প্রত্যেক পরীক্ষায় কেন্দ্রে ঢুকে বিভিন্নভাবে তাঁর স্ত্রীকে সহায়তা করছিলেন। আজও পরীক্ষা শুরু হতেই তাঁর স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষায় সহায়তা করছিলেন।
আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন বলে এনসিপি নেতা আশরাফ বলেন, পারিবারিকভাবে আমাদের বাগ্দান হয়েছে। তাকে আমি প্রায়ই কেন্দ্রে দিয়ে আসি। এর মধ্যে আমার হবু স্ত্রীকে কয়েক দিন ধরে বখাটে পরীক্ষার্থীরা উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আজ গিয়ে প্রতিবাদ করলে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারী সবাই ছাত্রলীগের কর্মী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সন্তান।’
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এনসিপির নেতাকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।