হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

কমিশনারের ভাগনে পরিচয়ে গুলিবর্ষণকারী যুবক মাদক কারবারি, রয়েছে ৮ মামলা

ফরিদপুর প্রতিনিধি

গ্রেপ্তার হামিদুল গাজী। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নিজেকে কমিশনারের ভাগনে পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যে পথচারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক হামিদুল গাজীকে চিহ্নিত মাদককারবারি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁর নামে দেশের বিভিন্ন থানায় আটটি মাদক মামলা রয়েছে। তবে কথিত ওই কমিশনারের পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

পুলিশ সুপার জানান, র‍্যাব-১ ও ১০-এর সহযোগিতায় হামিদুল গাজী ও তাঁর সঙ্গে থাকা তরুণীকে গ্রেপ্তার করে ভাঙ্গা থানা-পুলিশ। তাঁদের ব্যবহৃত সিএইচআর মডেলের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও একটি রিভলবারও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার হলদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালীমান্দ্রা গ্রামের মোতালেব গাজীর ছেলে হামিদুল গাজী (৪২) এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার দাড়িয়াল এলাকার আব্দুস সালাম হাওলাদারের মেয়ে শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনি (২৬)।

পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টায় ভাঙ্গা পৌরসভার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর ব্যক্তিগত গাড়িটি পার্কিং করে সিগারেট কিনতে যান হামিদুল। এ সময় তাঁর সঙ্গে ওই তরুণী ছিলেন। গাড়ি পার্কিং নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন হামিদুল। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে পথচারীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন তিনি। ঘটনার পর দুজন গোপালগঞ্জের দিকে পালিয়ে যান।

স্থানীয়দের ধারণ করা ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ১০ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন উপপরিদর্শক প্রশান্ত কুমার মণ্ডল।

মামলা হওয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর র‍্যাব-১ ও ১০-এর সহযোগিতায় ঢাকার বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামিদুল ও শিমুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে হামিদুলের গ্রামের বাড়ির পরিত্যক্ত বাথরুম থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর ওই যুবক নিজেকে ঝুট ব্যবসায়ী, অর্থাৎ গার্মেন্টসের কাপড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সিডিএম পর্যালোচনায় তাঁর নামে দেশের বিভিন্ন থানায় আরও আটটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এ মামলার পরিসংখ্যানে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।’

ঘটনার দিন গুলিবর্ষণের আগে হামিদুল নিজেকে গোপালগঞ্জের এক কমিশনারের ভাগনে পরিচয় দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘পরিচয়দানকারী কমিশনারের বিষয়ে ওই যুবক এখনো কোনো তথ্য আমাদের দেয়নি। হয়তো ঘটনার প্রেক্ষাপটে এমন পরিচয় দিতে পারেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন মুদ্রণ ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।