হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের যৌন নিপীড়নের শিকার শিশু, ৮ মাসের মধ্যেই মিলল বিচার

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামাল মোল্লার ৫ বছরের কারাদণ্ড। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের মধুখালীতে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ৬৫ বছর বয়সী জামাল মোল্লাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত জামাল মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। জামাল মোল্লা ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী দর্জিবাড়িতে নতুন জামা আনতে যায়। দর্জি বাড়িতে না থাকায় শিশুটি সেখানে অপেক্ষা করছিল। এ সময় জামাল মোল্লা শিশুটিকে চকলেট খাওয়ার লোভ দেখিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর জামাল মোল্লা কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরদিন শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। চার মাস আগে জামাল মোল্লা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠায়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. মোক্তার হোসেন ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ৯ জুলাই থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুরু হয় এবং ৩০ জুলাই তা শেষ হয়। আজ সোমবার দুপুরে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, ‘সমাজে বয়স্ক শ্রেণীর ব্যক্তিদের দ্বারা শিশুরা যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হচ্ছে। এসব মামলা আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিচ্ছেন এবং দ্রুতই বিচারিক কার্যক্রম শেষ করছেন। যাতে করে সমাজের এই চরম নৈতিক অবক্ষয় কমে যায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আজকের এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এই রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করি।’