হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরে ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির (৪৭) হত্যাকাণ্ডে মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্ত্রী ও স্বজনেরা। নিজেদের নিরাপত্তা, আসামিদের গ্রেপ্তারসহ ১১ দফা দাবিতে আজ সোমবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।

গত ১৮ জুলাই বাড়ির কাছে একটি পাটখেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইউসুফ ফকিরকে মুমূর্ষু অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইউসুফ ফরিদপুর জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ভুসিমাল ও মৌসুমি কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছিলেন। এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই কোতোয়ালি থানায় এবং গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করা হয়। চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আজমকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী বেদেনা বেগম।

বেদেনা বেগমের অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল তাঁর স্বামীকে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এ নিয়ে সাইফুলের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার দুই দিন পর তাঁর স্বামী নিখোঁজ হন এবং পরে বাড়ির কাছে পাটখেতে পাওয়া গেলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিএনপি নেতা সাইফুল ও তাঁর ছেলে অন্যদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বেদেনা বেগম। তিনি বলেন, ‘আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। আমার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। মমিনখার হাটে আমার পরিবার ও স্বজনরা যাঁরা ব্যবসা করেন, তাঁদেরও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

জানতে চাইলে বিএনপি নেতা সাইফুল বলেন, ‘আমি কেন তাঁদের হুমকি দিতে যাব? প্রশ্নই আসে না। আর চাঁদা নেব কেন? ও তো (নিহত ইউসুফ) ছোটখাটো ব্যবসায়ী, ওর চেয়ে এই বাজারের বড় বড় ব্যবসায়ী আছে, কারও এক টাকা চাঁদা দেওয়া লাগে না।’   

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘কোতোয়ালি থানার মামলাটি দেড় মাস আগেই সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে, তারা তদন্ত করছে। এ ছাড়া আদালতে মামলার বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব হয়েছে। মূলত থানায় দায়েরকৃত মামলাটির গুরুত্ব রয়েছে এবং তদন্তপ্রাপ্তে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’