ফরিদপুরে এক লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে রমা বিশ্বাস (২৫) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা আদায় করে নিহত রমার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মনোজিত সরকার (৪৩)। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এ মামলায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার এজাহারভুক্ত অন্য ছয় আসামিকে (যাঁরা প্রত্যেকেই মনোজিতের নিকটাত্মীয়) আদালত বেকসুর খালাস দেন। তাঁরা হলেন বিপুল সরকার (৫৩), সরজিৎ সরকার (৪৬), লিটন সরকার (৩৬), বিপ্লব সরকার (৩৩), সবুজ সরকার (৩০) ও দীপালী সরকার (৪৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। এই দম্পতির নয় বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। রমার বিয়ের সময় চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি সোনা ও ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয় মনোজিতকে। এরপর ধাপে ধাপে ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত নগদ আরও এক লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে তাঁকে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নগদ এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করেন মনোজিত। এই টাকা দিতে না পারায় ২০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে গলায় নাইলনের সুতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মনোজিত।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্ত্রীকে হত্যা করে মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন মনোজিত। এ ছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান—পেটের ব্যথা সহ্য করতে না পেরে রমা আত্মহত্যা করেছেন।
পরে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রমাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর ২০১৮ সালের ১০ মে রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিত ও তাঁর ছয়জন আত্মীয়ের নাম উল্লেখ করে তাঁর মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ এনে মধুখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুল করিম। ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর মনোজিত সরকার ও তাঁর ছয় আত্মীয়কে অভিযুক্ত করে সাতজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যৌতুকের প্রবণতা কমাতে এবং অপরাধ করলে যে অবশ্যই সাজা পেতে হবে, এ রায়ের মাধ্যমে সেই বার্তা সমাজে পৌঁছাবে।