ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘দায়িত্বহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
আজ বুধবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে ফুলবাড়ী নিমতলা মোড়ে জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখা আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনু মুহাম্মদ এ কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ফুলবাড়ীতে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। সেই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের দাবির ন্যায্যতা মেনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের সঙ্গে ছয় দফা চুক্তি করেছিল। এই চুক্তির ঐতিহাসিক মূল্য অসীম।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র যখন প্রধানমন্ত্রী, তখন এই চুক্তি ভঙ্গ করে উত্তরবঙ্গ ধ্বংস করে পানি সম্পদ ও জমি ধ্বংস এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবারও সেই কয়লার দিকে তাঁদের নজর। ফুলবাড়ীর দিকে তাকালে তাঁরা কয়লা ছাড়া আর কিছুই দেখেন না।’
কয়লা কোম্পানি ও তাদের সহযোগীরা মুনাফার জন্য দেশকে ধ্বংসের দিকে নিতে চায় দাবি করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষ ও সারা বাংলাদেশের মানুষ এটা কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।’
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, বিএনপি সরকার আবারও এই পথে অগ্রসর হলে জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হবে। অবিলম্বে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে করা ছয় দফা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি মানা না হলে এ বছরের মধ্যেই বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
এর আগে সকালে কালো ব্যাজ ধারণ, শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন, শোক র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস পালিত হয়। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে খণ্ড খণ্ড মিছিলও পৌর শহর প্রদক্ষিণ করে।
ফুলবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহমুদ আলম লিটনের নেতৃত্বে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ এবং সাবেক মেয়র মর্তুজা সরকার মানিকের নেতৃত্বে ‘ফুলবাড়ীবাসী’ পৃথক শোক র্যালি করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় ফুলবাড়ী রক্ষার শপথ পাঠ করা হয়।
পরে জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ শোক র্যালি শেষে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দুপুরে জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে নিমতলা মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় গণফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফি রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন নান্নু, সাম্যবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনজুর আলম মিঠু, ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা ও সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।