হোম > সারা দেশ > দিনাজপুর

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী: অস্তিত্ব সংকটে ছোট যমুনা এখন ভাগাড়

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 

ফুলবাড়ীতে একসময়ের খরস্রোতা ছোট যমুনা নদীতে ময়লার স্তূপ। ছবি: আজকের পত্রিকা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী দিয়ে প্রবাহিত একসময়ের খরস্রোতা ছোট যমুনা নদীটি এখন মৃতপ্রায়। বছরের অধিকাংশ সময় নদীতে পানি থাকে না, আর সামান্য পানি থাকলে সেখানে জমে থাকে ময়লা-আবর্জনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুলবাড়ী পৌরসভার স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্রতিদিনের ময়লা নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে আবর্জনায় ভরে উঠছে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কয়েক দশক আগেও ছোট যমুনা নদী ছিল এই অঞ্চলের প্রাণ। বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে উঠত পানিতে, শুষ্ক মৌসুমেও নদীতে নৌকা চলাচল করত। নদীর পানি ব্যবহার হতো কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও গৃহস্থালির নানা কাজে। নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল এলাকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নদীর নাব্যতা কমে গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিনাজপুর-ফুলবাড়ী-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী পৌর এলাকার বড় ব্রিজের (জোড়া ব্রিজ) নিচে এবং পৌর বাজারসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের পাশে নিয়মিতভাবে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন দুবার এসব বর্জ্য নদীতে ফেলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তিন-চার বছর আগে স্বল্প পরিসরে বর্জ্য ফেলা শুরু হলেও বর্তমানে পৌরসভার অধিকাংশ বর্জ্য এখানেই ফেলা হচ্ছে। গৃহস্থালি বর্জ্যের পাশাপাশি কাঁচাবাজারের ময়লাও নিয়মিত নদীতে ফেলা হয়। এসব ময়লা-আবর্জনা সরাসরি নদীতে জমে থেকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে এবং নদীর পানিকে আরও দূষিত করে তুলছে। এতে নদীর পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আশপাশের বাসিন্দারাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, নদী শুধু একটি জলধারা নয়; এটি একটি অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই ছোট যমুনা নদীকে বাঁচাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় অবহেলা ও দূষণের কারণে একসময় এই নদী পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

জানতে চাইলে ফুলবাড়ী সম্মিলিত সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি হামিদুল হক বলেন, নদীটি দ্রুত খনন করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাবে এই নদীর অস্তিত্ব।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার জানান, দেশের মিঠাপানির জলাশয়ে প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪টি প্রজাতি বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া এবং পানিদূষণ এসবের অন্যতম কারণ। নদী-নালা ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলার ফলে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে।

ফুলবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী লুৎফুল হুদা চৌধুরী বলেন, জাইকা প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছিল। তবে জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দ ফেরত চলে যায়।

ফুলবাড়ী পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউল ইসলাম বলেন, নদীতে পৌরসভার বর্জ্য ফেলার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, নদীদূষণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ফুলবাড়ী ছোট যমুনা দূষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরযাত্রীর গাড়ি সাইড দেওয়া নিয়ে হাতাহাতি, শ্রমিকনেতার মৃত্যু

কলার মোচা দেখিয়ে কয়েক শ ট্রেনযাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন দিনমজুর এনামুল

হিলি সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টি উপহার

ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে ঈদের জামাত, দেশ ও জাতির শান্তি কামনা

বিএনপি গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নকে বিশ্বাস করে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

টাকার অভাবে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখতে রাস্তায় মানুষের ঢল

ঈদের উপহার দিতে বোনের বাড়ি যাওয়ার পথে ভাইয়ের মৃত্যু

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর: মৌসুমে অকেজো ৩ ড্যাম

১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী