হোম > সারা দেশ > দিনাজপুর

‘বসতভিটা ধ্বংস করে-কয়লা খনি চাই না’ স্লোগানে ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 

ফুলবাড়ী পৌর শহরের নিমতলা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার সেখানে এসে শেষ হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লা খনির পরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ স্থানীয়রা।

আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় পৌর শহরের নিমতলা মোড় থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এরপর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার সেখানে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ফুলবাড়ীতে কয়লা খনি, চাই না-চাই না’, ‘জনে জনে জনতা-গড়ে তোলো একতা’, ‘বসতভিটা ধ্বংস করে-কয়লা খনি চাই না’, ‘এশিয়া এনার্জির দালালেরা-হুঁশিয়ার সাবধান’ এমন স্লোগান দেন।

মিছিলে অংশগ্রহণ করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার সদস্য আব্দুল মজিদ চৌধুরী, হামিদুল হক, এসএম নুরুজ্জামান জামান, আব্দুল কাইয়ুম, সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, মাহমুদ হাসান বাবু, হিমেল মণ্ডলসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রসঙ্গত গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জ্বালানি খাত ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য সরকার আগামী ১০ বছর কী কী করবে-সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

সেখানে প্রশ্নোত্তর পর্বে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার মুন্নীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে ফুলবাড়ীতে যে কয়লা খনি রয়েছে, সেই কয়লা খনি পৃথিবীর যে সব সবচেয়ে ভালো কয়লা খনি আছে, তার মধ্যে একটি। কাজেই আমরা এই কয়লাটিকে উত্তোলন করে যদি আমাদের জ্বালানিসংকট মেটাতে পারি, অবশ্যই সেটা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা যেরকম সাশ্রয় করবে একইভাবে দেশের জন্য সেটি ভালো হবে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, ‘কয়লাটি উত্তোলন করতে গেলে ওপেন পিট যদি করতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই সেখানে কিছু বসতবাড়ি, কৃষি জমি আছে। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য, অবশ্যই সবচেয়ে আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে সেই মানুষগুলোকে আগে সেটেলমেন্ট করা যায়। তাদের আয় রোজগার যাতে বন্ধ না হয় বরং সেই প্রকল্প গ্রহণ করলে সেই প্রকল্প থেকেও যাতে তারা কোনো না কোনোভাবে বেনিফিট পেতে পারে, সেই সকল ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেই এবং অবশ্যই পরিবেশের যে বিষয়টি আছে, সেটিকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’