দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ২০০৬ সালের মতো আবারও বৃহত্তর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ শনিবার বেলা ১১টায় ফুলবাড়ী নিমতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
সংগঠনটি জানিয়েছে, ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন না করে কোনোভাবেই পরিবেশ ও জনস্বার্থবিরোধী কয়লা খনি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন প্রধানমন্ত্রী যেই বক্তব্য দিয়েছেন আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ২০০৬ সালের আন্দোলনে তরিকুল, সালেকিন ও আমিন নিহত হওয়ার পর সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ৬ দফা চুক্তি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি।
জুয়েলের অভিযোগ, সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে বহুজাতিক কোম্পানি জিসিএম রিসোর্সেসের পুরোনো প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিশেষ করে ২০০৬ সালে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম কমিটির, ২০০৭-২০০৮ সালে পাটোয়ারী কমিটির রিপোর্ট ও ২০১১-২০১২ সালে মোশাররফ কমিটির রিপোর্টে ফুলবাড়ীর ভূ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপর উন্মুক্ত খনির সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হলে কৃষিজমি ও পানির উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
এ সময় তাঁরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সব পরিকল্পনা বাতিল এবং জিসিএম রিসোর্সেসকে ফুলবাড়ী প্রকল্প থেকে স্থায়ীভাবে বিতাড়ন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার সদস্য আব্দুল মজিদ চৌধুরী, হামিদুল হক, এসএম নুরুজ্জামান জামান, আব্দুল কাইয়ুম, সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু ও মাহমুদ হাসান বাবু প্রমুখ।