িনাজপুরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফ মুনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে আবদুস সামাদের ছেলে মো. মামুন (৩৬) তাঁর বাবাকে অপহরণের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে সোমবার রাতে তিনি বাদী হয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, হাসিন ইসরাক (২২), আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম (২২), বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ এলাকার সাজিদুল মিনহাজ (২৯) এবং সদর উপজেলার চাতরাপাড়া এলাকার মো. হৃদয় (২২)।
পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ থেকে অপহৃত আবদুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মামলার আসামি তিনজনকে আটক করা হয়। পরে থানায় নেওয়ার সময় তাঁদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ আরও দুজনকে আটক করে। এ সময় কোতোয়ালি থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এনসিপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা এনসিপির কয়েকজন নেতা দাবি করেন, ঘটনাটির পেছনে জমি-সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধ রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, আবদুস সামাদ জমি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। একটি জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে কয়েক মাস আগে সাড়ে চার লাখ টাকা নেওয়া হলেও পরে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সামাদকে ডেকে আনা হয়েছিল বলে তাঁরা দাবি করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরনবী বলেন, ‘ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’