দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে বিএসএফ সদস্যরা ওই ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর বিওপির গোবিন্দপুর সীমান্তের ২৮৯/৪৬ এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে একদল ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মাঠে অবস্থান করা জাহেনুর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বিষয়টি প্রথম টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাঁর ডাক শুনে পোস্টের বিজিবি সদস্য ও আশপাশের গ্রামবাসী দ্রুত সীমান্তে জড়ো হন। বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা প্রাথমিক চেষ্টা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলী জানান, প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার কিছু সময় পর বিএসএফ সদস্যরা পাশের আরেকটি পয়েন্ট দিয়ে একই চেষ্টা চালায়। তবে সেখানেও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে বিএসএফ।
সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক নুর ইসলাম জানান, বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় ২৮ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশ ইনের জন্য আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী ছিলেন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই ব্যক্তিদের আবার ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকে গোবিন্দপুর ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিএসএফের পুনরায় অনুপ্রবেশ চেষ্টার শঙ্কায় বিজিবির টহল বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাহারার উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্রামের পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্তবর্তী সড়ক ও বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা দিতে দেখা গেছে।
দাউদপুর বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মাহাবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুশ ইনের চেষ্টা আমরা সফলভাবে প্রতিহত করেছি। এতে স্থানীয় গ্রামবাসী অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
বিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শামীম আল মামুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিজিবির পাশাপাশি গ্রামবাসীও নিজ উদ্যোগে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি করছেন। পুশ ইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।