রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযানের পর আটক ২৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন—মো. দিদারুল আলম তুহিন (৫০), ইমান আহমেদ ইমন (৪৫), মোল্লা মো. শাহজাহান সিরাজ (৩৮), জয় সরকার (৩১), মো. মিরাজ আহমেদ (১৯), মো. মিরাজ মালিখা (৩৯), মো. রবিউল ইসলাম (২৮) মিলন কুমার মহন্ত (৪৯), মো. কাউসার হোসেন (৫৫), শ্রী অঞ্জন শিল (৫০), জালাল উদ্দীন মণ্ডল (৫২), আব্দুল লতিফ (৪৯), শামীম আহমেদ (৫৫), আহাম্মেদ আহসান হাবিব (৪৩), মো. সুজন আলী (৩২), মো. তসিকুল ইসলাম (৩৭), মো. সাইফুল্লাহ সায়েক (৪২),নয়ন আলী সাজিদুল ইসলাম তুহিন (৪০), তাজুল ইসলাম (৩৪), নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার (৪৩), আনোয়ার হোসেন (৩২), মো. আলমগীর হোসেন (৪২), মো. আল আমিন হাওলাদার (৩৯), মো. তুষার আলী (৫০), মো. রাশিদুল হক (৪৪) এবং মীর মুক্তিসুর রহমান (৫১)।
গ্রেপ্তার ২৭ জনকে সন্ধ্যা ৭টার পর আদালতে হাজির করে পল্টন থানা-পুলিশ। তাদের ফৌজদারি কার্যবিদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। আদালত প্রত্যেককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে জামিনের আবেদন শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে গুলিস্তানে জাসদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৭৮ থেকে ৩০০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জাসদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সেখানে তাদের পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা চলছিল।
অন্যদিকে পুলিশের ভাষ্য ছিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।
পরিচয় যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার আজ অধিকাংশ নেতা-কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সন্দেহভাজন ও অধিকতর যাচাইয়ের জন্য ২৭ জনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। পরে তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা ডিউটিতে নিয়োজিত থাকাকালে পুলিশ সংবাদ পায় যে, পল্টনের জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে একদল লোক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সঙ্গের ফোর্স ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা উক্ত ঘটনার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বা বৈধ জবাব দিতে পারেনি। আসামিরা কোনো ধর্তব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে মর্মে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য তাদের জেলহাজতে আটকে রাখা প্রয়োজন।