রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫ জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা। আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করার পরপরই এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাস করে কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সোমবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে অধিদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগ ও এসআরবি-১০-এর সদস্যরা অংশ নেন। ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন ও এর আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে আটক করা হয়।
এর আগে গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে আজ সোমবার দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন। এরপরই ঘুণ্টিঘর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের স্থান হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও অভিযান শেষে সেখানে আবারও মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা দেখা যায়। সম্প্রতি ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে সেখানে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে বারবার অভিযান চালিয়েও মাদক কেনাবেচা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ আসছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সোমবারের অভিযানে অংশ নেওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন ও মুন্সিরটেকসহ মাদকের আখড়া হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে মামলা করার পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তবে বারবার অভিযান চালিয়েও এলাকাগুলো পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, এসব এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের অনেকে ভাসমান। তাঁরা হঠাৎ এসে মাদক কেনাবেচা বা সেবন করে আবার চলে যান। অভিযানের সময় যাদের পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শেষে চলে গেলে আবারও অনেকে সেখানে ফিরে আসেন।
মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে জানিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, সোমবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঘুণ্টিঘর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আদালত বসিয়ে তাঁদের তিন মাস করে কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।