হোম > সারা দেশ > ঢাকা

বিএনপি চাঁদাবাজি করলে ফুটপাত কে উচ্ছেদ করছে— প্রশ্ন ডিএনসিসি প্রশাসকের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএনসিসি প্রশাসক। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘বিএনপি নাকি চাঁদাবাজি করে। তাহলে ফুটপাত কে উচ্ছেদ করছে?’ —এমন প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে অনেক প্রশ্ন করে যে ফুটপাত দিয়ে নাকি বিএনপি চাঁদাবাজি করে। তাহলে ফুটপাত কে উচ্ছেদ করছে? বর্তমান সরকার। আমি নিজেই বিএনপির একজন কর্মী। আমি নিজে উদ্যোগ গ্রহণ করে আমার সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করছি।’

আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ফুটপাত উচ্ছেদ করতে কাউকে জানাতে হবে কি না, এমন কোনো আইন বা বিধি থাকলে তা তাকে দেখাতে হবে। নগরসেবা নিশ্চিত করা এবং নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য সিটি করপোরেশনের কাউকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই।

প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরকে ক্লিন ও গ্রিন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কিছু কুচক্রী মহল ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায় উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন, যে যে অবস্থায় আছেন সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করবেন, পাশাপাশি নিজ দায়িত্বে নিজের রাজনৈতিক-আদর্শিক জায়গা থেকে নিজের ইমেজকে অক্ষুণ্ন রাখার জন্য অবৈধ ফুটপাত দখলদার, অবৈধ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। কিছু কুচক্রী মহল আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়। সেই ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনার ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘দেখেছেন কয়েকদিন আগে মিরপুরের রাড্ডার একটা ঘটনা ছিল। প্রধানমন্ত্রী কি অ্যাকশনে গিয়েছেন কি না? দলের ভেতরে-বাইরে যারাই দুষ্কৃতকারী আছে, তাদের কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ৮০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আমরা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই।’

প্রশাসক বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন অভিযান চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯০ দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রতিদিন উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে আরও ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এস, এম, শফিকুর রহমান, অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।