হোম > সারা দেশ > ঢাকা

অপরাধীরা ‘জিয়ার সৈনিক’ স্লোগানে পরিচয় দিলে লাভ নেই: এসআরবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৪-এর (এসআরবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আটকের পর নিজেদের বাঁচাতে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৪-এর (এসআরবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন ‘জিয়ার সৈনিক’ স্লোগান দিয়েছেন। বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় থাকার কথা বলেও তাঁরা নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এসআরবির কাছে এসব পরিচয় দিয়ে কোনো লাভ নেই।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসআরবি-৪ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন। এসআরবি আগে র‍্যাব নামে পরিচিত ছিল।

প্রেস ব্রিফিংটি ছিল বিদেশে চাকরি ও ওয়ার্কিং ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে। এই অভিযোগে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি) এলাকায় আজ সকালে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে এসআরবি-৪ আটক করে। পরে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দেন। পরে আটক ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ‘জিয়ার সৈনিক’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয়ও আছে বলে তাঁরা অভিযোগ তোলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘একজন অপরাধী গ্রেপ্তার হওয়ার পরে সে বিভিন্ন ধরনের স্টেটমেন্ট দিয়ে থাকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য। দুই-একজন স্লোগান দিচ্ছিল তারা “জিয়ার সৈনিক” বলে। তো এগুলো স্লোগান দিয়ে এখানকার কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় আছে, এই সমস্ত পরিচয় দিয়ে...আর কোথায় কী হবে জানি না, এসআরবির কাছে এসব পরিচয় দিয়ে লাভ নেই। সে অপরাধী, তাকে অপরাধ করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অন্য কার সঙ্গে কোথায় কী পরিচয় আছে, এটা আমাদের কাছে ইম্পর্ট্যান্ট না। আর বাঁচার জন্য এই ধরনের কথা তারা বলে থাকে।’

এর আগে আটক ব্যক্তিদের মধ্য থেকে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার দাবি জানাতে শোনা যায়। তাঁদের একজন বলেন, পাসপোর্ট অফিসের ডেলিগেটদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করলে বিভিন্ন নম্বর ও ভয়েস রেকর্ড পাওয়া যেতে পারে। আরেকজন পাসপোর্ট অফিসকে দালালদের ‘হেড অফিস’ বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাইনি। সামনে হয়তো বলেছে, কিন্তু স্পেসিফিকভাবে কোনো নাম কিংবা প্রমাণ তারা দিতে পারেনি।’

আটক ব্যক্তিদের একজনকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে বড় অপরাধ আমরা করছি আজকে।’ অন্যদেরও পাসপোর্ট অফিস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে দেখা যায়।

তবে আটক ব্যক্তিদের এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো নাম বা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে এসআরবি কর্মকর্তার বক্তব্যে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

এসবের আগে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রের কার্যক্রমের ওপর ছায়া তদন্ত করা হয়। তদন্তে বিদেশে চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ৯টার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আটক ১২ জনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালীর সবুজ ও সিরাজগঞ্জের শামীম—তিন মাস করে; সিরাজগঞ্জের সুজন—এক মাস; পাবনার শাহিন—২১ দিন; কিশোরগঞ্জের আবুল বাসার—১৫ দিন; ভোলার হারুন ও শরীয়তপুরের সুরুজ মিয়া—সাত দিন করে।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন হলেন কিশোরগঞ্জের দুর্জয়—১০ হাজার টাকা, রংপুরের রেজাউল করিম—পাঁচ হাজার টাকা, কিশোরগঞ্জের কাইয়ুম—চার হাজার টাকা, ভোলার রিয়াজ—দুই হাজার টাকা ও একই জেলার কামরুন নাহার—এক হাজার টাকা।

ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআরবির-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিভিন্ন মেয়াদের ২৪টি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজে বিদেশে কর্মী পাঠানো বা চাকরির ব্যবস্থা করে না।

অন্যদিকে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেল বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হয় না।

এসআরবি-৪-এর অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানো ও বিদেশে পাঠানোর নিশ্চয়তা দিতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আত্মসাৎ করা হতো।