রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লাগানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমিকে (২৬) রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনাইদ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিকেলে দুইজনকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে শাহবাগ থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তাদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত রোববার এই দুইজনকে দুইদিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। ওইদিন এ মামলার অন্যতম আসামি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস (২৭) ও মো. সাকিবুস হাসানকে (১৯) তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার পুলিশ প্রতিবেদন ও এজাহারে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের সড়ক ও ফুটপাতের হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই এলাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের সীমানাপ্রাচীরে বিভিন্ন শিল্পকর্ম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে গ্রাফিতি আঁকা ছিল।
গত ৯ অক্টোবর ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস গ্রাফিতিগুলো চুনকাম করে মুছে ফেলার ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে মামলা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশের দেয়ালের কাছে চারজন একত্র হন। এ সময় আয়াসসহ অন্যরা বিভিন্ন বক্তব্য দেন এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।