বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পৃথক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারজন শিক্ষক এবং তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকেরা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তাশরিক-ই-হাবিব। তাঁদের মধ্যে শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসসিসির) চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আর নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরী, রেজিস্ট্রারের ব্যক্তিগত শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলু মোল্লা এবং রেজিস্ট্রার অফিসের প্রশাসন-১ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার (বর্তমানে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে কর্মরত) মোছাম্মৎ শারমিন জাহান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলেছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন শিক্ষক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের পক্ষাবলম্বন, শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া চলবে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী জীবনধারণ ভাতা পাবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাডেমিক কমিটি ও প্রশাসনিক সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।