হোম > সারা দেশ > ঢাকা

কানাডায় চাকরির কথা বলে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, নারী গ্রেপ্তার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

কানাডার একটি কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে টাকা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।

গ্রেপ্তার নারীর নাম নার্গিস বেওয়া ওরফে সালমা আক্তার (২৬)। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার নয়ানখাল উত্তরপাড়া এলাকার মৃত ছকমল হোসেনের মেয়ে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে নয়ানখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

আজ রোববার সিআইডি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীকে কানাডার একটি কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গ্রেপ্তার নারীসহ চক্রের সদস্যরা ৩০ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৮ মে থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশে ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৮৯০ টাকা এবং নগদ ও রকেটে ২ লাখ ২৮ হাজার ৮১০ টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ২০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

টাকা নেওয়ার পর কানাডায় যাওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয়। পরে তিনি ওই কাগজপত্র নিয়ে কানাডা অ্যাম্বাসিতে যোগাযোগ করলে যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো ভুয়া বলে জানানো হয়।

প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর কাফরুল থানায় মামলা করেন।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেপ্তার নারীসহ চক্রের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করতেন। পরে সেগুলো আসল হিসেবে ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিতেন।

সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার নারী নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন। মামলার তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনানুগ কার্যক্রম চলছে।