হোম > সারা দেশ > ঢাকা

রমনা কালীমন্দিরে ৫ টাকায় পূজার বাজার, মিলছে নিত্যপণ্য ও পোশাক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

রমনা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে ৫ টাকায় পূজার বাজার আয়োজন করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর রমনা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে ৫০ পয়সা থেকে পাঁচ টাকার মধ্যে চাল, ডাল, তেল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পোশাক কেনার সুযোগ পেয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সহযোগিতায় আজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পণ্য কিনতে আসা ব্যক্তিরা প্রথমে নির্ধারিত স্থান থেকে টোকেন সংগ্রহ করছেন। পরে সেই টোকেন দেখিয়ে বিভিন্ন স্টল থেকে পছন্দের পণ্য কিনছেন তাঁরা। মন্দির প্রাঙ্গণে সাজানো স্টলগুলোতে খাদ্যসামগ্রী, শিশুদের পোশাক, স্কুলব্যাগসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রাখা হয়েছে।

আয়োজকদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, এক কেজি চাল ও এক কেজি লবণের দাম রাখা হয়েছে ৫০ পয়সা। এক কেজি মসুর ডাল, এক ডজন ডিম, এক প্যাকেট বিস্কুট, হ্যান্ডওয়াশ ও টয়লেট ক্লিনারের প্রতিটির দাম এক টাকা। এক লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি আটা, দুই কেজি ময়দা ও এক কেজি চিনিও বিক্রি করা হচ্ছে স্বল্পমূল্যে। শিশুদের কাপড়ের দাম দুই টাকা, স্কুলব্যাগ ও ছোটদের শার্ট-প্যান্ট তিন টাকা, লুঙ্গি চার টাকা এবং শাড়ি ও পাঞ্জাবির দাম পাঁচ টাকা।

বিনা মূল্যে পণ্য বিতরণের পরিবর্তে প্রতীকী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। আয়োজকদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে সহায়তা গ্রহণকারীদের আত্মমর্যাদা বজায় রাখা এবং তাঁদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

আয়োজকেরা জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ বছর সহস্রাধিক পরিবারের কাছে উপহার পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এক টাকায় এক ডজন ডিম এবং পাঁচ টাকায় শাড়ি দেওয়ার মতো উদ্যোগ মানুষের আত্মমর্যাদা বজায় রেখে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি জানান, এ কর্মসূচিতে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং অন্যান্য নিম্ন আয়ের মানুষও উপকৃত হচ্ছেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিনের সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তাই সবাইকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন আবদুস সালাম।

ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভাজন তৈরি না করে সবাইকে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের বিষয়ে তিনি জানান, ডিএসসিসির আওতাধীন ১৬৮টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।