হোম > সারা দেশ > ঢাকা

শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে আছেন তারকা অলরাউন্ডার। ফাইল ছবি

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম নতুন তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত বছর ১৭ মে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক আবুল খায়ের, তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভির নিজাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও হিসাবগুলোতে (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অসাধু, অনৈতিক ও অবৈধ উপায়ে ফটকা ব্যবসার মতো ধারাবাহিক লেনদেন, প্রতারণামূলক সক্রিয় লেনদেন ও অনুমাননির্ভর লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে কারসাজি করতেন।

এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা সংঘবদ্ধ চক্র গঠন করে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে ধারাবাহিক ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াতেন। প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হতো। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকার বেশি আত্মসাৎ করে। অস্বাভাবিক মূলধন লাভ হিসেবে উপস্থাপন করা এ অর্থ প্রকৃতপক্ষে অপরাধলব্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মো. আবুল খায়ের হিরু শেয়ারবাজার থেকে তোলা অর্থের মধ্যে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচার করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

হিরুর নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, হিরুর কারসাজি করা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন।

সাকিব আল হাসান বাজার কারসাজিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কারসাজি করা শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগে প্রতারণার মাধ্যমে প্রলুব্ধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এভাবে ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।