অপহরণের পর দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে।
দণ্ডিত আসামি হলেন জুয়েল রানা। তিনি ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ধুলপুর গ্রামের মো. রবিউলের ছেলে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল আসামিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে মো. অনিক মিঞা, নজরুল ইসলাম, রাজিবুল রহমান ও আরিফুল ইসলাম ওরফে রেজাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছেন জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী প্রাপ্য হবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোসতারী আক্তার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আশুলিয়া থানা এলাকায় একটি বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে এলাকার কিছু বখাটে যুবক স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। আসামি জুয়েল রানা ওই ছাত্রীকে কয়েকবার প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি মেয়েটি স্কুলে কোচিং করতে যাওয়ার পথে বিকেল ৩টার সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এর এক দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে ওই ছাত্রী প্রকাশ করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় তিন দিন পর ১৩ জানুয়ারি আশুলিয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। পরে পাঁচজনের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ১২ বছর পর মামলার রায় ঘোষণা হলো।