রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি নিয়ে ফেসবুক পোস্টে ‘একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যের ঘটনায় গ্রেপ্তার আবু বকর সিদ্দিককে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।
আবু বকরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ২১ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে ডিবি ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে রাজশাহীর পবা থানার ঘোল হাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার একটি বাসা থেকে আবু বকর ও তাঁর বাবা মো. আয়নাল হককে আটক করে। পরে আবু বকরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা থানায় মামলা করেন ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের এসআই মানিক হোসেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, তাঁর বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই মন্তব্য বা ঘটনার বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে প্রাথমিক যাচাই শেষে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির সময় ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ‘মাইশা আনজুম’ নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করা বাসের ছবি নজরে আসে ডিবির। ছবিটি প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পোস্টের মন্তব্যে ‘মো. আবু বক্কর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল’।
এজাহার অনুযায়ী, মন্তব্যটি নজরে আসার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী, ‘একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা যুবক আটক
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, আবু বকর সিদ্দিকের মন্তব্যের পেছনে কোনো সুসংগঠিত গোষ্ঠী বা পরিকল্পনাকারী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং জব্দ করা মোবাইল ফোনের বাইরে আরও কোনো আলামত রয়েছে কি না, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।
তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয় যাচাইয়ের জন্য তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।