সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১৩০ বার পেছাল।
আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ দেন। শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রাসেল নতুন তারিখ ধার্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।
সেদিন মো. আজিজুল হক আদালতকে বলেন, তিনি তদন্তভার নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে। তদন্ত চলছে। আশা করা যায়, শিগগির তদন্ত শেষ হবে।
তদন্ত বিলম্বিত হওয়ায় আদালত সেদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তদন্তের দায়িত্ব থেকে র্যাবকে সরিয়ে পিবিআইকে দায়িত্ব দেন। এরপর মামলাটিতে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারওয়ার ওরফে সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার ওরফে মেহেরুন রুনি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে। চার দিনে কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় মামলার তদন্ত পরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও ডিবি পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল র্যাব তদন্তভার গ্রহণ করে। গত নয় বছরের বেশি সময়েও কোনো সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের কোনো রহস্যও উদ্ঘাটন করতে পারেনি তারা।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, পলাশ রুদ্র পাল, আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির এবং তানভীর রহমান খান। বর্তমানে তানভীর রহমান খান ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে আছেন। অন্যরা কারাগারে আছেন।