হোম > সারা দেশ > ঢাকা

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রীর বিচার শুরু, সাক্ষ্য গ্রহণ কাল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

আদালতে হাজির করা হয় সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নাকে। ছবি: ফোকাস বাংলা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ওরফে স্বপ্না খাতুনের বিচার শুরু হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের মাসরুর সালেকিন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করায় এই মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।’ পিপি আরও বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন। মামলার বাদীসহ সাক্ষীগণ হাজির থাকবেন।’

আজ সোমবার সকালে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর সোহেল রানা ট্রাইব্যুনালকে বলেন, তাঁর স্ত্রীর কোনো দোষ নেই।

এর আগে, গত ২৪ মে বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক ঢাকার শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ১ জুন (সোমবার) অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২)/৩০ ধারা ও দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ-পরবর্তী সময় তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা এবং পরবর্তী সময় লাশ গুম করার জন্য গলা কেটে দুই ভাগ করা, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা ও দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীর এসব কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতসমূহের ফরেনসিক, রিপোর্ট, ডিএনএ পরীক্ষা এবং লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রমাণ হয় শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

যা ঘটেছিল

অভিযোগপত্র অনুসারে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি, অ্যাভিনিউ-৭-এর ৩৭ নম্বর বাসার পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার উত্তর পাশের কক্ষের বেডরুম থেকে আট বছরের শিশু পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় স্বপ্না আক্তার দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণের পর মেরে ফেলে। পরে লাশ গায়েব করার জন্য ধারালো ছুরি দ্বারা গলা কেটে ফেলেন। কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পুলিশকে খবর দেন এবং স্বপ্না আক্তারকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে সোহেলকে আটক করে পুলিশ।

এরপর, ২০ মে ভোরে আব্দুল হান্নান পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, যে বাসা থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় তার পাশের বাসাই বাদীর বাসা। সকাল সাড়ে ৯টায় শিশুটি বাসা থেকে বের হলে তাকে পাশের বাসায় নিয়ে আটকে রাখে। তাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

আসামির স্বীকারোক্তি

শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত ২০ মে দেওয়া এই জবানবন্দিতে ছোট্ট শিশুটির শরীরের ওপর স্বামী-স্ত্রীর নৃশংসতার লোমহর্ষক কাহিনি উঠে এসেছে।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, তাঁর বাসার দরজা খোলার পর মেয়েটিকে দেখে তাঁর বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে। ওই সময় ইয়াবা আসক্ত সোহেল শিশুটিকে ডেকে ঘরের বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একপর্যায়ে লাশ গুমে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন সোহেলের স্ত্রী।

আদালতে জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, তাঁরা একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষে থাকতেন। শিশুটির পরিবারসহ তিনটি পরিবারের বাস ছিল একই তলায়। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে দেখে ইয়াবা আসক্ত সোহেলের মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা তৈরি হয়। সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় সে। পরে জোর করে বাথরুমে নিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে ধর্ষণ করে। সোহেল জানায়, ঘটনার পর শিশুটি তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সে। নিজের অপরাধ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গোপনের পরিকল্পনা করেন। লাশ গুম করতে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। এ ছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় মেয়েটির মা দরজায় নক করছিলেন। তখন মূল আসামি সোহেল যাতে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন।

রাজধানীর কলাবাগানে ছোট ভাইয়ের ডাম্বেলের আঘাতে বড় ভাই খুন

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড-জলকামান নিক্ষেপ

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যার আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী আদালতে

কোরবানির বর্জ্য অপসারণ: কথা রাখতে পারল না দুই সিটি

ছয় শিশুর প্রাণ গেছে আদ্‌-দ্বীনের অবহেলায়

কালশী বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আনসার-ভিডিপি

আদ-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

রাজধানীর ডেমরায় স্টিল মিলে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩

৩ দিনে ৩৬ হাজার টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ ডিএসসিসির

গণসংগীতশিল্পী কামরুদ্দিন আবসার আর নেই