রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৫ দিনের রিমান্ড শেষে রাকিবুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। আজ শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাকিবুল ইসলামের কথোপকথন শোনা যায়।
অডিওতে রাকিবুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কিছু হবে না।’
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল, তাই ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে চলতি মাসেই তাঁর দেশে আসা উচিত।’ অডিওতে তাঁকে ‘পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’ বলতেও শোনা যায়।
প্রত্যাহারের পর রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএমপি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সিদ্ধান্ত হয়। পরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাকিবুলকে রাজারবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে ক্যান্টনমেন্ট থানায় সোপর্দ করা হয়। ওই দিনই তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ওসি রাকিবুলের অডিও ভাইরাল হওয়ায় দেশ-বিদেশে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ফলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অফিসার ইনচার্জের পদ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পুলিশ পরিদর্শক ও ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষমূলকভাবে বা বেপরোয়াভাবে প্রকাশিত বক্তব্যে দেশের ভেতরে দাঙ্গা সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে উসকানিসহ উত্তেজনা সৃষ্টি এবং প্ররোচনার পর্যাপ্ত তথ্য ছিল। যাতে দাঙ্গা অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা ছিল।
এতে আরও বলা হয়, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেশব্যাপী সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আপাতত পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে। তাঁর কথিত বক্তব্যে সরকারি কর্মচারী থাকা অবস্থায় সরকারের সমালোচনা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট, সরকার পতনের ষড়যন্ত্র, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সরকারের প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বাহিনী সম্পর্কে অবজ্ঞা, বিদ্বেষ, ঘৃণা পোষণ করেন। যা রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ অন্যান্য অপরাধের শামিল।
মামলা করার পর ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রাকিবুলকে ঢাকার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।