রাজধানীর রূপনগর থেকে অপহরণের ১৮ দিন পর ছয় বছরের এক শিশুকে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৪। আজ মঙ্গলবার টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদনগরের দত্তপাড়ায় সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের (বালক শাখা) ১ নম্বর ব্লক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
সন্ধ্যায় মিরপুর-১-এ এসআরবি-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
হাফিজুর রহমান জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়ার বাসা থেকে শিশু বায়জিদ অপহৃত হয়। ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি-৪-এর একটি দল।
তদন্তের শুরুতে ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এতে শিশুটিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের স্কয়ার নার্সিং হোম ক্লিনিক পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে লিপি ও নাসরিন নামের দুই নারীকে বায়জিদের হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর আর কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
এসআরবির এই কর্মকর্তা জানান, তদন্তে বায়জিদদের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া কুলসুমের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। কুলসুমের মেয়ে নাসরিন।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে এসআরবি জানায়, নাসরিন শিশু চুরি চক্রের সদস্য। তিনি বায়জিদকে নিয়ে লিপির সঙ্গে বিক্রির উদ্দেশ্যে যায় বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কুলসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বায়জিদের বাবা রিকশাচালক এবং মা বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ওই নারী বায়জিদ ও তাঁর স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাসায় রেখে কাজে বের হন। দুপুরে ঘুম থেকে উঠে বাবা দেখতে পান, বায়জিদ বাসায় নেই। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে রূপনগর থানায় মামলা করেন তিনি।
এসআরবি-৪ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বায়জিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার টঙ্গীর সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
শিশু অপহরণের ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪।