ব্যবস্থাপত্রে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ লেখা চিকিৎসকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ, প্রসাধনী সামগ্রী, ওষুধ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ ওই অভিযান চালিয়েছে।
প্রেস ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদনহীন কোনো ওষুধ চিকিৎসকদের প্রেসক্রাইব করার সুযোগ নেই। অনুমোদনহীন কোনো ওষুধ কেউ প্রেসক্রাইব করতে পারবেন না। তিনজন গ্রেপ্তারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্তে কারা এসব ওষুধ বিক্রি করত, কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হতো ও কোনো ডিসপেনসারিতে এসব ওষুধ রাখা আছে কি না—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভেজাল ওষুধ তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যবসার সময়কাল সম্পর্কে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে তাঁরা এই ব্যবসা করে আসছিলেন। এ জন্য যে বাসাটি ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেটিও প্রায় তিন মাস আগে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। তাঁদের নেটওয়ার্ক সারা দেশে ছড়িয়ে আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি ঢাকার মধ্যেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তদন্ত এগিয়ে গেলে নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।
অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ওষুধ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এই সংবেদনশীল জিনিস নিয়ে এ রকম দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।