হোম > সারা দেশ > ঢাকা

যন্ত্রপাতির অভাবে অর্ধেক সেবা চলছে রাড্ডা ক্লিনিকে

আবুল বাসার সাজ্জাদ, ঢাকা

রাড্ডা ক্লিনিকে এখনো রয়ে গেছে হামলার ক্ষতচিহ্ন। চিকিৎসাযন্ত্র থেকে শুরু করে চেয়ার-টেবিলও ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়েছে। চলছে মেরামতকাজ। গতকাল রাজধানীর মিরপুরে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা। সূর্য ঠিক মাথার ওপরে। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ঢালাই করা দেয়ালে পানি দিচ্ছিলেন মো. জাকির হোসেন। কথা বলে জানা যায়, জাকিরের পদ নিরাপত্তাকর্মী হলেও প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা থেকে কাজটি করছিলেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লিনিকের বিভিন্ন অংশে এখনো মেরামতের কাজ চলছে। এ ছাড়া লুট হওয়া অধিকাংশ যন্ত্রপাতি এখনো না পাওয়ায় অর্ধেক সেবা দিতে পারছে ক্লিনিকটি।

দুর্বৃত্তদের গত ২৪ সেপ্টেম্বরের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে তছনছ হয়ে যায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবকাঠামো। হামলার ক্ষতচিহ্ন মুছে আবারও ক্লিনিকটিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। দেয়াল মেরামতসহ অন্যান্য কাজ চলছে। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই দেখা যায়, সামনে অভ্যর্থনা কক্ষের জন্য নতুন করে দেয়াল তোলা হচ্ছে। চলছে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের কাজ। নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। একটি ব্যানারে লেখা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ‘সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে’ সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলেছে, কিছু কাজ তারা নিজেদের অর্থায়নেও করছে।

বর্তমানে ক্লিনিকটিতে পরিবার-পরিকল্পনা, পুষ্টি এবং শিশুদের হাম-রুবেলাসহ সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে লুট হওয়া যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারায় ফার্মেসি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, পরীক্ষাগারসহ কয়েকটি সেবা চালু করা যায়নি। ফলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠান থেকে এখনো আগের মতো পূর্ণাঙ্গ সেবা পাচ্ছেন না সেবাগ্রহীতারা।

ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার আজকের পত্রিকাকে বলেন, চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য জিনিসের ব্যবস্থা করতে এখনো পর্যাপ্ত অর্থায়ন পাওয়া যায়নি। পরিবার-পরিকল্পনা কার্যক্রমের জন্য থাকা কিছু সামগ্রী কাজে লাগিয়ে সীমিত পরিসরে সেবা শুরু করা হয়েছে।

নির্বাহী পরিচালক জানান, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ক্লিনিকের উল্লেখযোগ্য যন্ত্র-সরঞ্জাম হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, টিকা সংরক্ষণের ফ্রিজ, আলমারি, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং স্টিলের আসবাব। এসবের অধিকাংশেরই বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু মিলিয়ে দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

নাসরিন আখতার আরও বলেন, লুট হওয়া অল্প কিছু জিনিস পরে পাওয়া গেলেও সেগুলো ভাঙাচোরা ও ব্যবহারের অনুপযোগী। নষ্ট অবস্থায় একটি ফ্রিজও পাওয়া গিয়েছে। সেটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ভেতরে থাকা ওষুধ নষ্ট হয়ে গেছে।

২৮ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করে এর পুনর্নির্মাণ ও চিকিৎসাসেবা আবার চালু করতে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জামায়াতের আমির বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রটি সংস্কার ও চালু করতে ৫০ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা করা হবে।

তবে আমিরের এই ঘোষণার পরে রাড্ডা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কেউ আর যোগাযোগ করেনি বলে জানান ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। তিনি বলেন, ‘উনাদের বিষয়ে কোনো আপডেট নেই আমাদের কাছে। উনারা পরে আর যোগাযোগ করেননি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘যোগাযোগ আমরা করব, নাকি উনারা করবেন? আমরা তো ঘোষণা দিয়েই এলাম। কথা ছিল উনারা আসবেন। আমি যত দূর জানি, উনাদের কমিটি বসবে, আমাদের জানাবে। পরে আমরা কমিটির হাতে হস্তান্তর করব।’

সরকারি মেরামতের পরও বাড়তি কাজ ক্লিনিকের মেরামতকাজ তদারক করছেন রাড্ডার রক্ষণাবেক্ষণ তত্ত্বাবধায়ক পিটার সরদার। তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নিজের অর্থায়নে মেরামত কাজের পর তাঁরাও কিছু কাজ নিজেদের উদ্যোগে নতুন করে করছেন। এর মধ্যে রয়েছে সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতা বাড়ানো, বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থায়ী করা ইত্যাদি।

পিটার সরদার জানান, সরকারি মেরামতের কিছু কাজের মানে অসংগতি রয়েছে, সেগুলো পরে ঠিক করতে হবে। মেরামতকাজ এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আরও প্রায় ১৫ দিন লাগতে পারে।

সীমিত পরিসরে সেবার মধ্যেই ভিড়

১৯৭৪ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুরোপুরি মেরামতের পাশাপাশি লুট হওয়া চিকিৎসা সরঞ্জামের বিকল্প ব্যবস্থা করা। কারণ, স্থানীয় রোগী ও সেবাপ্রার্থীর ব্যাপক চাপ রয়েছে। সেবা সীমিত থাকলেও ক্লিনিকে রোগীর উপস্থিতি কমেনি। রাড্ডা ক্লিনিকের ডেপুটি ইনচার্জ নূর মোহাম্মদ বলেন, বর্তমানেও আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ জন রোগী আসছে।

নূর মোহাম্মদ বলেন, সব সেবা চালু না থাকলেও আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। কারণ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর অনেক মানুষ নতুন করে ক্লিনিকটি সম্পর্কে জেনেছে। সব সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু করা গেলে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন রোগী পাওয়া যাবে বলে তাঁদের ধারণা।

ইউনিসেফের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউসে হামলা-লুটের অভিযোগ, পুলিশের ‘পরামর্শে’ যোগ হলো ‘চাঁদাবাজি’

দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু, ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদে

মাসে ২০-২২টি বুকিং থাকত অতিরিক্ত ডিআইজির সেই ফ্ল্যাটে, অতিষ্ঠ ছিল অন্য পুলিশ পরিবার

রাজধানীর মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু

ইশরাকের পুনর্বহাল, অন্যথায় জুলাই আহত বা শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী দাবি

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার, ৪ দিনের রিমান্ডে

মিয়ানমারের স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে পালানো তিন বাংলাদেশি ফিরছেন কাল

চট্টগ্রামে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, সাবেক সেনা ও র‍্যাব সদস্যসহ আটক ৬

টঙ্গীতে গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুন, বাবা-মা ও মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক