হোম > সারা দেশ > ঢাকা

সচিব পরিচয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

প্রতীকী ছবি

জমি কেনার কথা বলে সচিব পরিচয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)। আজ শনিবার রাজধানীর পিবিআই ঢাকা মহানগরের উত্তর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সচিব পরিচয় দেওয়া মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান (৪৮), কথিত জমির মালিক সুমন আহমেদ ওরফে জাহাঙ্গীর আলম (৩৯) এবং জমির দালাল মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ওরফে সাইফুল (৫২)।

পিবিআই জানায়, দারুস সালাম এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন (৪৯) জমির শেয়ার বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে সাইফুল ওরফে শাহীন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিজেকে একজন সচিবের হয়ে জমি কেনার জন্য যোগাযোগকারী হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।

পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে কথিত ওই সচিবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর তাঁকে ধানমন্ডির একটি অভিজাত বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে আধুনিক একটি গাড়িতে আসা এক ব্যক্তিকে সচিব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি জানান, তিনি নিজে সরাসরি জমি কিনতে পারবেন না। তাঁর মাধ্যমে জমি কেনার প্রস্তাব দেন তিনি।

এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, প্রতারকেরা ফারুক হোসেনকে সাভারের বিলামালিয়া মৌজার ৫৮ শতাংশ জমি কেনার প্রস্তাব দেন। জমিটির দাম প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বলে জানানো হয়। কথিত সচিবের জন্য জমিটি কিনে দিলে পরে তা বিক্রি করে এক কোটি টাকা লাভ হবে এমন প্রলোভনও দেখানো হয়।

ফারুক হোসেনের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তাঁর সামনেই কথিত জমির মালিককে নগদ এক লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার অভিনয় করেন প্রতারকেরা। পরে জমির বায়না হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে ব্যাংক ও বাসা থেকে মোট ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে কথিত জমির মালিকের হাতে দেন ফারুক হোসেন।

এরপর ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র করার কথা বলে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে বায়নাপত্রের মূল কপি দেওয়ার কথা বলে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ওই টাকাও দেন তিনি। এভাবে মোট ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতারকেরা তাঁকে বায়নাপত্র না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতারণার অংশ হিসেবে চক্রটি ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেত। কখনো কথিত সচিবের অফিসে যাওয়ার কথা বলা হতো, আবার কখনো ভাড়া বাসায়। এমনকি কথিত জমির মালিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এমন গল্পও সাজানো হয়।

পরে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে ফারুক হোসেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রথমে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কথিত সচিব শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও দালাল সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।