ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে সরকারি গোপন আইনে (অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট) করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রবিউলকে দুই দফার রিমান্ডে নেওয়ার পর আজ আদালতে হাজির করে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৯২৩ সালের সরকারি গোপন আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখান। পরে তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৭ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিউলকে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বরও তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
গত ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর থেকে রবিউলকে পুলিশ আটক করে। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ৫৪ ধারার অভিযোগে বলা হয়েছিল, রবিউল গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তার গতিবিধি সন্দেহজনক। তিনি পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন। পরে ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়। তবে রবিউলের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডির জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্মতারিখের মিল নেই। তিনি এর আগে অনেকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করলেও সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরতে পারেননি। আসামি বাংলাদেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধে জড়িত আছেন। সম্প্রতি ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতায় তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
৫৪ ধারায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয় রবিউল ভারতীয় নাগরিক হয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় যাতায়াত করেছেন। তিনি এদেশের স্বার্থবিরোধী কাজে নিয়োজিত থাকতেন। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচার করতেন। আর এ কারণে তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিবি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডিবি রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, রবিউল ইসলামের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার গৌড়িভোজ গ্রামে। তার বাবার নাম শহীদুল ইসলাম। তিনি ভারতীয় নাগরিক দাবি করলেও তার পাসপোর্ট দেখা যায় সৌদি আরবের। তাকে দুই দফার রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর জব্দকৃত পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যালোচনা করা হয়।
পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টের জন্মতারিখের গড়মিল আছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ আছে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, প্রায় ১০-১২ বছর যাবত তিনি বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াত করেছেন। যাতায়াতের সময় কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, কখনো বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন। বেশির ভাগ সময় ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এদেশে অবস্থান করেছেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থি কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে প্রেরণের চেষ্টা করেছেন।