নিখোঁজ হওয়ার চার দিনেও সন্ধান মেলেনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তুরাগ থানার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম মামুনুর রশিদের। রাজধানীর উত্তরার কামারপাড়া এলাকা থেকে গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নিখোঁজ হন তিনি। ওইদিন মামুনের স্ত্রী খাদিজা আক্তার তুরাগ থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে কামারপাড়া এলাকার একটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজে গত সোমবার সকাল ৬টা ১৮ মিনিটে সাদা পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় একটি অটোরিকশার মধ্যে মামুনকে দেখা গেছে। ওই অটোরিকশায় আরও দু-তিনজন ছিলেন। তবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি। অটোরিকশাটির গন্তব্যস্থল কোথায় ছিল, সে তথ্যও মেলেনি।
মামুনের বাবা মো. সফি আজ বৃহস্পতিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার ছেলে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে, এটাই যেন তার অপরাধ। এ ছাড়া আমি আর কোনো অপরাধ দেখি না। আমি সরকারের কাছে হাতজোড় করে বলছি, তারা যেন আমার ছেলেকে জীবিত অবস্থায় আমার বুকে ফিরিয়ে দেয়।’
নিখোঁজ হওয়ার আগে মামুন হুমকি পেয়েছিলেন বলে দাবি করে তাঁর স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার আগে মামুন হুমকি পেয়েছিলেন, যা তাঁর বন্ধুদের জানিয়েছিলেন। নিখোঁজের পর শুধু সিসি ক্যামেরার ফুটেজেই আমরা মামুনকে দেখেছি, আর কোনো খবর পাইনি।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তুরাগ থানার সাবেক আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘মামুন নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন রাত ৯টা ২৭ মিনিটে আমাকে ফোন করে তাঁকে হুমকির কথা জানান। পরে হুমকির দুটি স্ক্রিনশটও আমাকে পাঠান তিনি।’
কার কাছ থেকে মামুন হুমকি পেয়েছিলেন, সেই জিজ্ঞাসায় নুর বলেন, ‘তুরাগের সাব্বির, মেহেদী ও আলমগীর যুবশক্তির অনুষ্ঠানে লোক সরবরাহ করত। তারা আগে ছাত্রলীগের রাজনীতি করত। যুব প্রজন্ম লীগের পদেও ছিল। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে ছাত্র আন্দোলনের সময় মেহেদী ও সাব্বির ছাত্রলীগের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছিল। সে সময় ছাত্রলীগের লোকজন আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করেছে, যার ভিডিও আমাদের কাছে আছে। মামুন এগুলো একটি ফেসবুক পেজে আপলোড করেছিলেন। এই জায়গা থেকে দ্বন্দ্বের শুরু। মামুন ও আলমগীর দুজনেই তুরাগের যুবশক্তির আহ্বায়ক প্রার্থী ছিলেন, এ নিয়েও তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল।’
তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মামুনকে খুঁজে বের করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’ মামুনকে হুমকির বিষয়ে পুলিশ কিছু জানে না বলে জানান তিনি।